কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন,সভাপতি আবু সাঈদ-সাধারণ সম্পাদক শাতিল মাহমুদ।
উৎসবমুখর পরিবেশে ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদের বার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনে সভাপতি পদে শেখ মোঃ আবু সাঈদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এস এম শাতিল মাহমুদ জয়লাভ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির ভবনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ৪৩৪ জন ভোটারের মধ্যে ৪১৪ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনা শেষে রাতেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ১৭টি পদের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ক শেখ মোঃ আবু সাঈদ ১৮৯ ভোট পেয়ে সভপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থী সোহেল খালিদ মোঃ সাঈদ পেয়েছেন ১৩৩ ভোট এবং খন্দকার সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৭ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মোঃ আব্দুর রহমান ২০৭ ভোট পেয়ে সভপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থী মোঃ আকরাম হোসেন দুলাল পেয়েছেন ১৯৬ ভোট। সহ-সভাপতি পদে মোঃ মাহমুদুল হক চঞ্চল ১৫৫ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এস এম মনোয়ার হোসেন মুকুল পেয়েছেন ১৩৫ ভোট এবং মোঃ নিজাম উদ্দিন পেয়েছেন ১১৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে এস এম শাতিল মাহমুদ ২৪১ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খ ম আরিফুল ইসলাম রিপন পেয়েছেন ১৬৫ ভোট।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নাজমুন নাহার ২১৮ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ আব্দুস সাত্তার (শাহেদ) পেয়েছেন ১২৬ ভোট এবং মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম (মনিরুল) পেয়েছেন ৬৩ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে মোঃ মকলেছুর রহমান পিন্টু ১৪৪ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার অপর তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সেনা পেয়েছেন ১০৫ ভোট, মোঃ ইকবাল হোসেন টুকু পেয়েছেন ৮৩ ভোট এবং মোঃ শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ ভোট।
গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মোঃ এনামুল হক ২১০ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোছাঃ সুলতানা গেম (মমো) পেয়েছেন ১৯৭ ভোট। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ আশরাফুল রেজা (শিমুল) ১৬২ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ রোকুনুজ্জামান (সাজু) পেয়েছেন ১২৯ ভোট এবং মোঃ তোজাম্মেল হক পেয়েছেন ১২২ ভোট। দপ্তর সম্পাদক পদে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ মারুফ বিল্লাহ ১৫৯ ভোট পেয়ে নর্বাচিত হয়েছেন। তার অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ ওয়াকিবুল ইসলাম (লিপসন) পেয়েছেন ১৩৮ ভোট এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম (দীপু) পেয়েছেন ১০৯ ভোট।
সিনিয়র সদস্য পদে ৩৫১ ভোট পেয়ে মোঃ হাফিজুর রহমান (হাফিজ), ৩৪৭ ভোট পেয়ে মোঃ আকতারুজ্জামান (আকতার), ৩১৭ ভোট পেয়ে মোছাঃ আয়েশা সিদ্দীকা এবং ৩১২ ভোট পেয়ে আশুতোষ কুমার পাল (দেবাশীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। সিনিয়র সদস্য পদে এক মাত্র পরাজিত প্রার্থী হলেন, মোঃ হাবিবুর রহমান (আজিম)। তিনি পেয়েছেন ২১৮ ভোট। জুনিয়র সদস্য পদে ৩৩২ ভোট পেয়ে মোঃ সাইফুল ইসলাম রানা (২), ৩২০ ভোট পেয়ে রবিউল ইসলাম, ৩০৪ ভোট পেয়ে মোঃ সাইফুর রহমান (সুমন) এবং ১৯১ ভোট পেয়ে মোঃ জাভেদ কাইছার (জাসিব) নির্বাচিত হয়েছেন। জুনিয়র সদস্য পদে ১৯৫ ভোট পেয়ে খন্দকার নবীন মাহামুদ এবং ১৬০ ভোট পেয়ে মোঃ খাইরুজ্জামান পরাজিত হয়েছেন।
বিগত বছরগুলোতে এ সমিতির নির্বাচনে স্পষ্ট প্যানেলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও এবার দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। প্রকাশ্যে কোনো প্যানেল ঘোষণা না থাকলেও মাঠপর্যায়ে দুটি অনানুষ্ঠানিক ধারার গুঞ্জন ছিলো বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য। তাঁদের ভাষ্য, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবেই অধিকাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছেন। তবে পেশাগত স্বার্থ, বারের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অবস্থান, সব মিলিয়ে ভেতরে ভেতরে দুই ধরনের সমর্থনজোট গড়ে উঠেছিলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট কে এম আব্দুর রউফ।

