ads
১৭ এপ্রিল, ২০২৬

আলমডাঙ্গায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা: প্রাণহানি ঘটলেই দায়সারা তৎপরতা, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

স্টাফ রিপোর্টার

আলমডাঙ্গায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা: প্রাণহানি ঘটলেই দায়সারা তৎপরতা, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

আলমডাঙ্গায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা: প্রাণহানি ঘটলেই দায়সারা তৎপরতা, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চরম অব্যবস্থাপনা ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এক ধরনের অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমে এসব ক্লিনিক নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেই কেবল প্রশাসনের দায়সারা তৎপরতা চোখে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌর শহরে বর্তমানে অন্তত ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে সরকারি নীতিমালা মেনে চললেও অধিকাংশ ক্লিনিকেই নিয়ম-কানুনের কোনো বালাই নেই।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রতি ১০ শয্যার ক্লিনিকে ৩ জন সার্বক্ষণিক এমবিবিএস চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। মাত্র কয়েকটি ক্লিনিকে স্বল্প সময়ের জন্য চিকিৎসকের উপস্থিতি মিললেও অধিকাংশ সময়ই চিকিৎসকশূন্য অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান, যেখানে নামমাত্র ডিএমএফ চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ক্লিনিক মালিকরাই চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার এবং অদক্ষ নন-মেডিকেল স্টাফ দিয়ে অপারেশন করানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের।

প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাব স্পষ্ট। কেবল কোনো ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঘটলেই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়ে।

সম্প্রতি শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযান চালানো হলেও, প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনার পরও মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে দায়সারা ব্যবস্থা নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে অপ্রয়োজনীয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কার্যত রোগীদের জিম্মি করে গড়ে উঠেছে এক ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা. নূরুন নাহার বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চ বেতনে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিয়ে সরকারি নীতিমালা মেনে ক্লিনিক পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার জানান, প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক ক্লিনিকে অভিযান চালানো হয়েছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিলের পর সরকারি নীতিমালার বাইরে কোনো ক্লিনিক পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, প্রাণহানির পর নয়—আগেই কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই অরাজকতা থামানো সম্ভব নয়।

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ

শিরোনাম