পটুয়াখালী-৩ আসনে নুর–মামুনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষ এড়াতে সেনা মোতায়েন
পটুয়াখালী প্রতিনিধি | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী—গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের পাল্টাপাল্টি নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—দুই প্রার্থী একই দিন ও কাছাকাছি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার কর্মসূচি ঘোষণা করায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে ৩১ জানুয়ারি এবং আগামী ৪, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারিকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়,
৩১ জানুয়ারি চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়ন
৪ ফেব্রুয়ারি রতনদী তালতলী ইউনিয়নের কাটাখালী
৫ ফেব্রুয়ারি গজালিয়া ইউনিয়নের আদানীবাজার
৬ ফেব্রুয়ারি কলাগাছিয়া ও বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে
উভয় প্রার্থীর সমর্থকেরা কাছাকাছি স্থানে প্রচারণা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
পুলিশের তথ্যে আরও জানা গেছে, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে, অন্য অংশ নুরুল হক নুরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই বিভাজন উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এর আগেও ২৬ জানুয়ারি দশমিনার পাগলা বাজার এবং ২৭ জানুয়ারি গলাচিপার পাতাবুনিয়া এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং সংশ্লিষ্ট থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি জমা না দেওয়ার বিষয়টি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মৌখিকভাবে কর্মসূচি সমন্বয়ের অনুরোধ জানানো হলেও কোনো পক্ষই অবস্থান পরিবর্তনে রাজি হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উভয় প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে নতুন করে অনুমোদন নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, দুই প্রার্থীর সাংঘর্ষিক কর্মসূচির কারণে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

