ads
৩ মে, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় পোড়া মবিল থেকে বিকল্প ডিজেল উদ্ভাবন, কৃষকদের মাঝে আশার আলো

অনলাইন

কুষ্টিয়ায় পোড়া মবিল থেকে বিকল্প ডিজেল উদ্ভাবন, কৃষকদের মাঝে আশার আলো

কুষ্টিয়ায় পোড়া মবিল থেকে বিকল্প ডিজেল উদ্ভাবন, কৃষকদের মাঝে আশার আলো

ডিজেল সংকটে যখন দেশের কৃষকরা দিশেহারা, ঠিক তখন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম তৈরি করেছেন বিকল্প জ্বালানি “ম্যাড” (মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল)। পোড়া মবিল পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে তৈরি এই জ্বালানি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের সেচকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এতে উৎপাদন ব্যয়ও কমছে বলে দাবি করা হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মেশিনারিজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ২০০৭ সাল থেকেই ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প জ্বালানি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পর তিনি পোড়া মবিলের সঙ্গে বিশেষ ধরনের “বুস্টার” মিশিয়ে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তৈরিতে সফল হয়েছেন বলে জানান।

মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, তার উদ্ভাবিত বুস্টার চারটি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি। এটি মূলত জ্বালানির কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তিনি দাবি করেন, ৫ লিটার পোড়া মবিলের সঙ্গে মাত্র ১০০ গ্রাম বুস্টার মিশিয়ে প্রায় ৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আকরাম হোসেন ও ওমর আলী জানান, ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। মনিরুল ইসলামের পরামর্শে তারা পোড়া মবিল ও বুস্টার মিশিয়ে তৈরি জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেন। এতে সেচ কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে দাবি করেন তারা।

উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের গবেষণা ও বাস্তব পরীক্ষার মাধ্যমে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি। কৃষকদের সেচকাজে সহায়তা করতে পেরে ভালো লাগছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের প্রধান জাহিদুল হক বলেন, “উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইঞ্জিনের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে জ্বালানিটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনে কোনো ক্ষতি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না, তাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,যদি এটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়, তাহলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বর্তমান ডিজেল সংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্ভাবন সময়োপযোগী। পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে উদ্ভাবককে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মনিরুল ইসলামের উদ্ভাবিত বিকল্প জ্বালানি যদি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ

শিরোনাম