৮ মে, ২০২৬

গণমাধ্যমে কথা বলায় নারী চিকিৎসককে হত্যা গণধর্ষণের হুমকি, থানায় জিডি

গণমাধ্যমে কথা বলায় নারী চিকিৎসককে হত্যা গণধর্ষণের হুমকি, থানায় জিডি

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণে এক মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে কথা বলার পর এক নারী চিকিৎসককে হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ওই চিকিৎসকের নাম ডা. সায়মা আক্তার। তিনি গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে তিনি মদন থানায় জিডি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।

জিডিতে ডা. সায়মা আক্তার উল্লেখ করেন, গত ৩০ এপ্রিল এক কিশোরী শারীরিক জটিলতা নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

পরে কিশোরী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, মাদরাসার এক শিক্ষক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন।

জিডিতে আরও বলা হয়, পরে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম তার কাছে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন।

সেই বক্তব্য বিভিন্ন টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গালিগালাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জিডিতে চিকিৎসক উল্লেখ করেন, এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন।

ডা. সায়মা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘একজন নারী চিকিৎসক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তার নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন।এর আগে আসামির বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ।

১০ মে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে