৫ মে, ২০২৬

জুয়ার টাকা জোগাড়ে ভিসির হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেফতার

জুয়ার টাকা জোগাড়ে ভিসির হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেফতার

স্বনামধন্য এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে তার পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিহাদ হাসান (২৩)। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম আবুল কালাম আজাদ এবং মায়ের নাম মোছা. রোজিনা খাতুন। ডাকঘর- নলডাঙ্গা।

সিআইডি জানায়, গত ৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাতে (৪ মে দিবাগত রাতে) ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের একটি চৌকস আভিযানিক দল। অভিযানে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন নৃসিংহপুর গ্রামের একটি তেল পাম্পের বিপরীতে চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল ফোনটি পর্যালোচনা করে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিত এই চক্র।

এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-৪০ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের হয় ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ৯৮(২), ২১(১), ২২(২) ও ২৭(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা কর্মস্থলে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। ওই বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে তিনি সরল বিশ্বাসে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন ভুক্তভোগী নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মামলার তদন্তে সিআইডির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং চক্রের সক্রিয় সদস্য রিহাদ হাসানকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলত এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জুয়ার পেছনে ব্যয় করত।

এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গ্রেফতারকৃতকে পর্যাপ্ত পুলিশ প্রহরা ও সতর্কতার সঙ্গে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার এবং যাচাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।