১৬ এপ্রিল, ২০২৬

রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার উপপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ।গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম তারেক (২৬) মহেশখালী পৌরসভার দাসী মাঝিপাড়ার বাসিন্দা। নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নী (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা একটি ময়লা-আবর্জনার ডোবায় বেডশিট মোড়ানো অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ঘটনার ৪ থেকে ৫ দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের মা বাদী হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাকে কক্সবাজারে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, প্রায় ৬-৭ মাস আগে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তৃতীয় বিয়ে করায় দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে তিনি পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন।

পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও কবজি বিচ্ছিন্ন করে বাঁকখালী নদীর নতুন ব্রিজের নিচে ফেলে দেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে ভাড়া বাসা থেকে।

উপপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, বুধবার দিনব্যাপী গ্রেফতার আসামিকে নিয়ে বাঁকখালী নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে নিহতের মাথা ও হাতের কবজি ফেলে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে নিখোঁজ অংশ উদ্ধার করা যায়নি।