কুষ্টিয়ায় দিনদুপুরে অপহরণের চেষ্টা, পালিয়ে বাঁচল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া শহরে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী মুরসালিন শেখ (১১) কুঠিপাড়া এলাকার মমতাজ উলুম মাদ্রাসার ছাত্র। এ ঘটনায় তার বাবা মো. সাদ্দাম শেখ কুষ্টিয়া মডেল থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে মাদ্রাসা ছুটির পর মাঠে খেলাধুলা শেষে একতারা মোড় সড়ক দিয়ে ফেরার পথে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কাগজে লেখা একটি ঠিকানা দেখিয়ে মুরসালিনের কাছে পথ জানতে চায়। ঠিকানা দেখাতে রাজি হলে ওই ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক কোলে তুলে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নেয় এবং তার চোখ বেঁধে ফেলে।
পরবর্তীতে তাকে গাড়িতে করে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ এলাকা অতিক্রম করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ভাঙা ঘরে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু সময় পর অপহরণকারী বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে মুরসালিন ঘরের পেছনের ভাঙা অংশ দিয়ে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে সে থানার মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাকে চিনতে পেরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে তার বাবা ঘটনাস্থলে এসে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগের দিন ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় একই ধরনের একটি প্রাইভেটকার থেকে তাকে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। তিনি জানান, ওই দিন মুরসালিনকে ক্লাসে না দেখে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাবা জানান, ছেলে তার সঙ্গে দোকানে আছে। এ কারণে সেদিন তাকে আর মাদ্রাসায় না আনতে বলা হয়। তিনি বলেন, “অপহরণের মতো কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি সত্যি হলে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।