সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে ব্যতিক্রমী এক ঘটনার জন্ম হয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রেই কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আম্বিয়া বেগম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া-র নামে।
রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেংনাই গ্রামের বাসিন্দা আম্বিয়া বেগম ৬৬নং বেংনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান। তিনি ওই গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার প্রসব বেদনা শুরু হলে উপস্থিত নারীরা তাকে কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
পরিবারটি জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সমর্থক এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তাদের বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। সেই আবেগ থেকেই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘বেগম খালেদা জিয়া’। শিশুটির ডাকনাম রাখা হয়েছে ‘ত্রয়ী’। পরবর্তীতে তার পূর্ণ নাম নির্ধারণ করা হয় ‘বেগম খালেদা জিয়া ওরফে ত্রয়ী’।
ঘটনাটি জানার পর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আম্বিয়া বেগমের বাড়িতে গিয়ে নবজাতককে দেখেন এবং উপহার সামগ্রী তুলে দেন। মা ও শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার, ফল, শিশুর পোশাক ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও তারা শিশুটির পাশে থাকবে।
একই সঙ্গে একটি ইউনিক নম্বরসহ শিশুটির জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করে দেওয়া হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নবজাতকের মা আম্বিয়া বেগম বলেন, ভোরে ভোট দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর পর তার প্রসব বেদনা ওঠে। অন্য নারীদের সহায়তায় কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। প্রিয় নেত্রীর নাম অনুসারেই মেয়ের নাম রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শিশুটির বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হওয়ায় তার স্ত্রী ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছিলেন। ভোট দিতে গিয়েই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে, যা তাদের জন্য আনন্দের বিষয়। প্রিয় নেত্রীর নামানুসারেই মেয়ের নাম রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হওয়ায় এমন ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর পাশে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।