১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: দুই দফা রিমান্ড শেষে রুবেলের দোষ স্বীকার

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: দুই দফা রিমান্ড শেষে রুবেলের দোষ স্বীকার

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে রুবেলের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি

প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ । খ্রিস্টাব্দ ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
স্টাফ রিপোর্টার: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ফয়সাল রুবেল আহমেদ আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।
প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তা গ্রহণ করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে পুনরায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি: জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
মামলা ও তদন্ত
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা যুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুনঃতদন্তে সিআইডি
ডিবি পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করলে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সেই পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবেই আসামি ফয়সাল রুবেল আহমেদের রিমান্ড ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।