৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

সরকার গঠন হলে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: আসিফ মাহমুদ

সরকার গঠন হলে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: আসিফ মাহমুদ

সরকার গঠন হলে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: আসিফ মাহমুদ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

১১ দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করতে পারলে দেশের যুবকদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সংস্কার প্রশ্নে একটি দলের অবস্থান অস্পষ্ট। দুই মাস নীরব থাকার পর দলের প্রধান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বললেও কর্মীরা প্রকাশ্যে ‘না’ ভোট চাইছেন। তিনি বলেন, এভাবে ভিন্ন অবস্থান নেওয়াও এক ধরনের গোপন রাজনীতি।

তিনি আরও জানান, সাইফুল্লাহ হায়দারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং স্থানীয় জনগণের দাবির কথা বিবেচনায় নিয়ে এলাকায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিচার প্রসঙ্গে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ, শাপলা চত্বর এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের হত্যার বিচার করা হবে।

দুর্নীতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার গঠন হলে ‘হিসাব দাও’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উপদেষ্টা পদ ছাড়ার সময় সরকারি বাসভবন ও ব্যবহৃত সামগ্রী তিনি ফেরত দিয়েছেন।

আঞ্চলিক রাজনীতি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ ভারতের প্রতি সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ তিন দিক দিয়ে একটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত হলেও পারস্পরিক সম্মান ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, যা বাস্তবে দেখা যায়নি।

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করলেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ভুল বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এর ফলেই বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণ যদি আবারও নির্যাতনের পথে যেতে চায়, তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।

তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, অতীতেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবার জনগণকে প্রশ্ন করতে হবে—কবে এবং কীভাবে ঋণ মওকুফ হবে।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাশরুর আহমেদ এবং টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ হোসনে মোবারক বাবুলসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।