২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বমিত্র চাকমার যত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

সর্বমিত্র চাকমার যত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সম্প্রতি বহিরাগত কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং এরপরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচনায় ছিলেন সর্বমিত্র চাকমা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে:- অক্টোবর ২০২৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় খাবার গাড়ি, হকার এবং অনুমোদনহীন দোকানপাট উচ্ছেদ করেন তিনি। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তোলেন, নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর এখতিয়ার তার আছে কি না। নভেম্বর ২০২৫: ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২৪ জানুয়ারি ২০২৬: এদিন এক ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থেকে কিশোর ও তরুণদের কান ধরে ওঠবস করান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ওই তরুণরা বহিরাগত ছিল এবং মাঠে খেলার কারণেই তাদের শাস্তি দেয়া হয়। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬: এদিন নতুন আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম এলাকায় তিনি লাঠি হাতে কিশোর ও তরুণদের কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন।সোমবার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে সর্বমিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে এবং ক্যাম্পাস নিরাপদ করতে তিনি রেজিস্টার্ড রিকশা চালু ও যানবাহন সীমিতকরণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেন্ট্রাল ফিল্ড বা কেন্দ্রীয় মাঠের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।’ প্রশাসন থেকে দেয়াল সংস্কারের ফাইল ফিরে আসার পর বহিরাগতরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কিশোরদের শাস্তি দেয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।’ তিনি স্বীকার করেন যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিস্থিতির কারণে তাকে আইনের ঊর্ধ্বে যেতে হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থাকে বিষিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই। আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এর আগে কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চান।